বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৩

লং মার্চ কি হারাম নাকি গনতান্ত্রিক রাজনীতির অংশ?!

 সত্য জানুন..!

এ বিষয়ে কোন ধরণের খাস দলিল প্রদান করার পূর্বে সর্বপ্রথম একটি উসুল বা মূলনীতি ভালো করে বুঝে নেয়া দরকার আর সেটি হোল ' আল হাদারাহ ওয়াল মাদানিয়া ' সংক্রান্ত মূলনীতি। হাদারাহ বলতে বোঝায় সভ্যতাকে যা জীবন সম্পর্কে একটি বিশেষ আক্কিদা বিশ্বাস থেকে উৎসারিত হয়। আর মাদানিয়া হোল বস্তুগত উপায় উপকরণ।

মুসলিমদের জন্য অমুসলিমদের হাদারাহ থেকে উৎসারিত কোন কিছু ব্যাবহারের অনুমতি নেই। অমুসলিমদের হাদারাহ থেকে উৎসারিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে তাদের আক্কিদা উৎসারিত বিষয়গুলো যেমন আইন কানুন, এমন কোন পোশাক পরিচ্ছেদ যাতে তাদের আক্কিদা বিশ্বাসের প্রতিফলন রয়েছে যেমন গেরুয়া পোশাক, পাদ্রীদের আলখাল্লা, ইহুদিদের লবনের বাটির মত গোল টুপি ইত্তাদি। এছাড়া যাকিছুই তাদের হাদারাহ থেকে উদ্ভূত তার সবই মুসলিমদের জন্য ব্যাবহার করা হারাম। আমরা এর আরও অনেক উদাহরণ দিতে পারি। যেমন মঙ্গল প্রদিপ বা কোন অনুষ্ঠানের পূর্বে মোমবাতি জ্বালানো হারাম কারণ এটা হিন্দুদের হাদারাহ থেকে উদ্ভূত। হিন্দুরা মোমবাতি এবং প্রদীপ জ্বালানোকে মঙ্গলের লক্ষন এবং অমঙ্গল প্রতিরোধক বলে মেনে থাকে। সুতরাং এটা সুস্পষ্ট শিরক। কারণ আমরা মুসলিমরা বিশ্বাস করি মঙ্গল-অমঙ্গল বা ভালো মন্দ একমাত্র আল্লাহ্‌র (সূওতা) পক্ষ থেকেই নির্ধারিত হয়।
তাই অমুসলিমদের হাদারাহ সক্রান্ত বিষয়গুলোই শুধু এই হাদিসের আওতায় আসবে যাতে রাসুল(স) বলেছেন, ''যে ভিন্ন জাতির অনুসরণ করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে'' (আবু দাউদ)।

অন্যদিকে মাদানিয়া অর্থাৎ বস্তুগত উপায় উপকরণ হচ্ছে সার্বজনীন (Universal)। এগুলো কোন বিশেষ আক্কিদা বিশ্বাস থেকে উদ্ভূত নয় বিধায় এগুলো যেই আবিষ্কার করুক না কেন তা ব্যাবহার করা বা সেগুলোর নতুন নতুন সংস্করণ বের করা মুসলিমদের জন্য ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ বৈধ। মাদানিয়ার উদাহরণ দিতে গিয়ে আমরা বিভিন্ন টেকনোলজি অর্থাৎ প্রযুক্তি কথা বলতে পারি। যেমন বৈজ্ঞানিক লেব্রেটারি, কৃষি উপকরণসমূহ, মেডিক্যাল যত্রপাতি ইত্যাদি। এগুলো কোন ধর্মের আক্কিদা বিশ্বাস অর্থাৎ হাদারাহ থেকে উৎসারিত হয় নি তাই এগুলো সার্বজনীন বিধায় ইসলাম এগুলোর ওপর কোন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। মুসলমানরা ইসলামের একেবারে প্রাথমিক যুগেও অমুসলিমদের কত্রিক আবিষ্কৃত মাদানিয়া ব্যাবহার করেছে। যেমন রাসুল (স) যুদ্ধের সময় খন্দক বা পরিখা খনন করেছিলেন যা ছিল পারস্যবাসীদের প্রযুক্তি এবং এটার সাথে মুসলিমরা পূর্বে অপরিচিত ছিল। এছারাও রাসুল(স) হজরত যায়েদ বিন সাবিতকে হিব্রু ভাষা শিক্ষা করার নির্দেশ দিলে তিনি তা মাত্র দশদিনে শিখে নেন। এছাড়াও রাসুল(স) একজন সাহাবাকে ইয়মেনে পাঠান ভালো মানের তলোয়ার তৈরি শিক্ষা করার জন্য এবং তখনো কিন্তু ইয়েমেন ইসলামের অধীনে আসেনি এবং এর অধিবাসীরা ছিল আহলে কিতাব তথা ইহুদি নাসারা। একিভাবে রাসুল(স) মেঞ্জানিক কামানের ব্যাবহার শেখার জন্য দুজন সাহাবাকে সিরিয়াতে পাঠিয়েছিলেন। এবং এই মিঞ্জানিক বা নিক্ষেপণ যন্ত্র ছিল রোমকদের প্রযুক্তি।

তাই আমরা বলতে চাই লং মার্চ এবং অবরোধ যদি অমুসলিমদের দ্বারা আবিষ্কৃত হয়েও থাকে তাতে কোন সমস্যা নেই কারণ এগুলো অমুসলিমদের হাদারাহ তথা আক্কিদা বিশ্বাস থেকে উৎসারিত নয় বরং এগুলো মাদানিয়ার মধ্যে পড়ে। তাই এগুলর ব্যাবহার মুসলমানদের জন্য বৈধ। যদিও এগুলো বৈধ হওয়ার আরও খাস দলিল রয়েছে কিন্তু স্ট্যাটাসের কলেবর বেড়ে যাওয়ার আশংকায় আমি আর সেগুলো উল্লেখ করছি না। কেননা আশা করি এটুকুই কাফি হবে ইনশাল্লাহ।

[বিঃদ্রঃ হরতালকে এর সাথে মিলিয়ে ফেলবেন না।]

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন