বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৩

হেফাজতে ইসলামের প্রতি খোলা চিঠিঃ-

~~
হেফাজতে ইসলামের প্রতি খোলা চিঠিঃ
সরকারের কাছে সমাধান নেই বরং সমাধান খুঁজুন ইসলামের কাছে...!!

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রিয় হেফাজতে ইসলাম,

এ লিখাটি একেবারেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও লিখতে হল। কারণ না লিখে কোন উপায় ছিল না। মুসলিমরা পরস্পর ভাই ভাই। তাই প্রয়োজনে সঠিক পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করা দ্বীনি দায়িত্বসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি দায়িত্ব। এছাড়াও রাসুল(স) স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘’মুমিনদের পারস্পরিক সম্পর্ক একটি প্রাচীরের মতো,যার একটি অংশ অপর অংশকে মজবুত করে’’ (সহিহ বুখারি এবং মুসলিম)।

এই লিখাটিতে আগামী ৬ এপ্রিলের ‘লং মার্চ’ কে নিয়েকিছু বলার আশা রাখি যা একেবারে না বললেই নয়। যদিও জানি না এই লেখা আপনাদের কাছে পৌঁছুবে কি পৌঁছুবে না। তবে আমাদের দায়িত্ব আমরা পালন করলাম হয়তো আল্লাহ্‌ চাইলে লিখাটি আপনাদের কাছে পৌঁছে যেতেও পারে। এবার তাহলে আসল কথায় আসি।

আমরা সবাই এটা অবগত আছি যে, আপনাদের লং মার্চটি নাস্তিক মুরতাদদের আস্ফালন বন্ধের দাবিতে ডাকা হয়েছে। এবং এ লক্ষ্যে আপনারা সরকারের কাছে ১৩ দফা দাবি উপস্থাপন করেছেন। এ দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নাস্তিকদের শাস্তি, ব্লাসেফেমি আইন পাশ, ইসলামবিরোধী ব্লগগুলো বন্ধ করে দেয়া ইত্যাদি।

আমরা যারা সাধারণ মুসলিম আছি, যাদের মধ্যে অণুপ রিমাণ ঈমানও অবশিষ্ট আছে তারা সবাই হেফাজতে ইসলামের উপরোক্ত দাবিগুলোর সাথে একমত। কেননা এগুলো তো প্রতিটা ঈমানদার মুসলিমেরই প্রাণের দাবি। তাই লং মার্চের ব্যাপারেওআমাদের সম্পূর্ণ সমর্থন আছে।

কিন্তু প্রিয় হেফাজতে ইসলাম, আপনাদের কিছু কিছু চিন্তার সাথে মোটেও একমত পোষণ করতে পারছি না। এবং আপনাদের কর্মকৌশলেও কিছুটা ভুল দেখতে পাচ্ছি। তাই আজকের এই খোলা চিঠির মাধ্যমে সেগুলোর দিকে ইঙ্গিত দেয়ার চেষ্টা করবো সেই সাথে ভুলগুলো সংশোধন করে যাতে জাগ্রত জনতার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি সত্যিকার এবং স্থায়ী সমাধান অর্জন করা যায় সে ব্যাপারেও ইনশাল্লাহ কিছু প্রস্তাবনা উপস্থাপনের আশা রাখি। এটি কোন সমালোচনা নয় বরং নসিহা। তাই আশা করবো সকলেই ইতিবাচকভাবেই এটি গ্রহণ করবেন।

হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের প্রকৃতি বিশ্লেষণঃ

হেফাজতে ইসলাম একেবারে শুরু থেকেই বলে আসছে যে তাদের আন্দোলন কোন রাজনৈতিক আন্দোলন নয় এবং এই আন্দোলনের কোন রাজনৈতিক লক্ষ্য ও নেই। তাছাড়া সংগঠনটির শীর্ষনেতৃবৃন্দ বারবার একটি কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন- আর সেটি হল তাদের আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয় বরং নাস্তিকদের বিরুদ্ধে। হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ নাস্তিকদের শাস্তিসহ ১৩ দফাদাবি ঘোষণা করেছেন এবং তারা চান যে সরকার দাবিগুলো মেনে নিক। তাহলেই তারা ঘরে ফিরে যাবেন। সেই সাথে তারা এটাও বলেছেন তারা আওয়ামীলীগকে মুসলিমদের সরকার মনে করেন, কিন্তু সরকার যদি লং মার্চে বাঁধা দেয় তবে তারা মনে করবেন আওয়ামীলীগ হচ্ছে নাস্তিকদের সরকার। এছাড়াও লং মার্চে বাঁধা পেলে লাগাতার হরতালের হুমকি দিয়েছেন তারা। তো সংক্ষেপে বলতে গেলে এ হচ্ছে হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচী।

আন্দোলনের বুদ্ধিবৃত্তিক এবং কৌশলগত দুর্বলতাঃ

এ আন্দোলনের উদ্দেশ্য সৎ। তাছাড়া দ্বীনী দৃষ্টিকোণ থেকে এর অপরিহার্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন অবকাশ নেই। সুতরাং এমন একটি আন্দোলন গড়ে তোলা সময়ের দাবিছিল। আলহামদুলিল্লাহ্‌ আমাদের অভিভাবক আলেম উলামারা এটি করেও দেখিয়েছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে এই আন্দোলনের মধ্যে কিছু চিন্তাগত এবং কৌশলগত দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। তাই কৌশলগত দিক থেকে এআন্দোলনটি সরকারের কূটচালের কাছে মার খেয়ে যেতে পারে।

আমরা চেষ্টা করব এই দুর্বল পয়েন্টগুলো সামনে নিয়ে আসার জন্য যাতে এখনই এগুলো সংশোধন করে ফেলা যায়।

আন্দোলনটির দিকে তাকালে আমরা নিম্নলিখিত দুর্বলতাগুলো দেখতে পাই-

১)সমস্যার প্রকৃত সমাধান সম্পর্কে অজ্ঞতাঃ

এটাই সবচাইতে বড় এবং মারাত্মক দুর্বলতা। হেফাজতে ইসলাম বর্তমান সরকারের কাছে নাস্তিক মুরতাদদের কাছে বিচার চাইছেন, অথচ এই সরকার হচ্ছে নাস্তিক চক্রের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। এই সরকার নাস্তিকদের গানম্যান দিয়ে পাহাড়া দিচ্ছে। তাছাড়া কাফের মুশরেকদের পদলেহি এই সরকার ক্ষমতায় আসার প্রথম দিন থেকেই দেশের আপামর মুসলিম জনতারওপর অত্যাচারের ষ্টীমরোলার চালানো শুরু করেছিল। এই আওয়ামীলীগের শাসন আমলেই বিভিন্ন স্কুলের হিন্দু শিক্ষকরা রাসুল (স) কে অপমান করার ধৃষ্টতা দেখিয়ে গেছে এবং এখনো পর্যন্ত কাউকে শাস্তির সম্মুখীন করা হয় নি।

তাছাড়া এই তাগুত সরকারের কাছে দাবি দাওয়া পেশ করা কি আদৌ ইসলাম সম্মত? রাসুল (স) কখনো বাতিল শক্তির কাছে ইনসাফ প্রার্থনা করেননি। মক্কাতে যখন রাসুল (স)এবং সাহাবাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন হচ্ছিল তখন কি মুসলিমরা আবু জেহেল, আবুলাহাবের কাছে গিয়েছিলেন দাবি দাওয়া নিয়ে???

না যাননি। কারণ ইসলাম প্রতিটা সমস্যার সমাধান তার নিজস্ব পদ্ধতিতেই করতেচায়। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ সমস্যার প্রকৃত সমাধান সম্পর্কে হয়তো এখনো পুরোপুরি সচেতন নন।

২)তাগুত সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান না নেয়াটা হেফাজতে ইসলামের একটি মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্তঃ

আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বারবার বলছেন তাদের আন্দোলনের সরকারের বিরুদ্ধে নয়। আর এটা তাদের আরও একটি ভুল যার মাশুল তাদের দিতে হবে। নাস্তিকদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে এ সরকার আল্লাহ্‌র দ্বীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তাছাড়া অসংখ্য ইস্যুতে সরকার সরাসরি ইসলাম এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এমন একটি সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান না নিয়ে কিভাবে হেফাজতে ইসলাম ইসলামের হেফাজত করবে তা একটা বড় প্রশ্ন?

তাছাড়া হেফাজতে ইসলাম নেতৃবৃন্দের এ ধরণের ঘোষণা মুসলিমদের ঈমানি গায়রতের পরিপন্থী। কারণ সরকার যেহেতু ইসলামের প্রকাশ্য শত্রু তাই এ সরকার মুসলমানদেরও শত্রু। আর তাই ঈমানদার মুসলমানরা এই সরকারের বিরুদ্ধে। আর এটাই স্বাভাবিক।

সরকার যেভাবে হেফাজতে ইসলামকে মোকাবেলা করতে পারেঃ

আমরা যদি একটু চিন্তা করি তাহলে সহজেই বুঝতে পারবো সম্ভাব্য তিনটি উপায়ে সরকার হেফাজতে ইসলামের মোকাবেলা করবে। এর বাইরে গিয়ে কিছু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

১)সরকার সরাসরি হেফাজতে ইসলামের দাবি দাওয়া প্রত্যাখ্যান করবেঃ

তবে এমনটি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। কারণ জনপ্রিয়তা হারিয়ে বর্তমান সরকারেরঅবস্থা এখন চরম খারাপ। নাস্তিক,মুরতাদ,কাফের,মুশরেক এবং মুনাফেকদের একটি গোষ্ঠীছাড়া এ সরকারের কোন পাবলিক সাপোর্ট নেই। এটি সরকারের আচরণ দেখলেই বোঝা যায়। তাই সরকার এখন পেশী শক্তির ওপর ভর করে রাষ্ট্র চালাচ্ছে।

সুতরাং, এমন অবস্থায় সরাসরি হেফাজতে ইসলামের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করে কওমি আলেমদের সাথে ডাইরেক্ট সংঘাতে সরকার যাবে না।

২)সরকার হেফাজতে ইসলামের দাবিগুলো মেনে নিয়ে তা বাস্তবায়ন করবেঃ

কিন্তু এটি অসম্ভব। কারণ বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে গিয়েছে ইসলাম বিরোধিতা। বছরের পর বছর ধরে তাদের মধ্যে চালু রয়েছে ইসলাম বিদ্বেষী চিন্তা চেতনা। শুধু তাই না আওয়ামীলীগের বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব যারা চালায় তারা ইসলাম বিদ্বেষী। দলের কন্ট্রোল তাদের হাতে। তাছাড়া এ দলটি বাংলাদেশের নাস্তিক মুরতাদদের একমাত্র আশ্রয়স্থল। এবং এটিও পরীক্ষিত। তাই এটা আশা করা বোকামির শামিল যে সরকার নাস্তিকদের নির্মূল করবে।

৩)সরকার প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বাহ্যিকভাবে দাবি দাওয়া মেনে নিবে কিন্তু তা বাস্তবায়ন করবে নাঃ

কোন সন্দেহ নেই যে এটিই হতে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার হেফাজতে ইসলামের সাথে প্রতারণা করে আপাত দৃষ্টিতে তাদের দাবিগুলো মেনে নিয়ে তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিবে। এজন্য তারা কিছু ব্লগারকে গ্রেফতারও করতে পারে। কিন্তু এর উদ্দেশ্য হবে লোক দেখানো। গ্রেফতারের পর আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতায় কেটে যাবে বেশ কয়েক মাস। আর এর মধ্যেই নির্বাচন ঘনিয়ে আসবে। আর তখন কিন্তু জনগণের দৃষ্টি চলে যাবে নির্বাচনের দিকে। মাঝখান থেকে ধামাচাপা পড়ে যাবে নাস্তিক বিরোধী ইস্যু।

যেভাবে হেফাজতে ইসলাম সরকারের ফাঁদে পড়তে পারেঃ

হেফাজতে ইসলামকে ফাঁদে ফেলা সরকারের জন্য কঠিন কিছু নয়। এজন্য সরকার হেফাজতে ইসলামের দাবীগুলো মেনে নেয়ার ঘোষণা দিতে পারে। কারণ এগুলো মেনে নেওয়া আর বাস্তবায়ন করা এক কথা নয়। তাছাড়া চাইলেই মুহূর্তের মধ্যে এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এজন্য সরকারের দরকার বেশ কিছুটা সময়। যেমন প্রথমেই ব্লাসেফেমি আইনপাশ করতে হবে। তারপর সেই আইনের আওতায় ব্লগারদের গ্রেফতার এবং পরবর্তীতে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে। এবং কোন সন্দেহ নেই বিচার শুরু হলেও তা দীর্ঘ হবে। এর মধ্যে হয়তো নাস্তিক ব্লগাররা জামিনে বেরিয়েও যেতে পারে। আর তাছাড়া সরকার যদি কতিপয় ব্লগারকে গ্রেফতার করেও ফেলে, তাহলে তা হবে নিছক লোক দেখানোর জন্য। কারণ আওয়ামীলীগ আন্তরিকভাবে নাস্তিক দমনে নেমে যাবে এটা বিশ্বাস করা আর শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেয়াটা একি কথা। এছারা আমাদের রাষ্ট্র বেবস্থা ইসলামী নয় এজন্য স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষাব্যবস্থাও ইসলামী নয়। আর এই ইসলাম বিবর্জিত শিক্ষা ব্যবস্থাই নাস্তিক তৈরির মূল মেশিন। সুতরাং গুটিকয়েক নাস্তিককে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হলেই যে এ সমাজে আর কোন নাস্তিক সৃষ্টি হবে না এর গ্যারান্টি কি??? তাই হেফাজতে ইসলামকে অবশ্যই এর স্থায়ী সমাধান নিয়েও চিন্তা করতে হবে।

তাছাড়া সরকার যদি হেফাজতের দাবিগুলো বাহ্যিকভাবে মেনে নেয় তাহলে ঘরে ফিরে যাওয়া এবং অপেক্ষা করে বারবার পত্রিকাতে বিবৃতি দেয়া ছাড়া হেফাজতে ইসলামের কিছু করনীয় থাকবে না। কারণ এটা আশা করা যায় না যে সরকার রাতারাতি হেফাজতে ইসলামের দাবিদাওয়াগুলো বাস্তবায়ন করে ফেলবে। এমতাবস্থায় হেফাজতের পক্ষে আরেকটি লং মার্চ টাইপের কিছু একটা করা হয়ে দাঁড়াবে কষ্টকর ব্যাপার। কারণ বারবার বিশাল সংখ্যক মানুষ এক জায়গাতে জড়ো করা তো চাট্টিখানি কথা নয়।

সুতরাং এভাবেই কেটে যাবে আরও কয়েকটি মাস। চলে আসবে নির্বাচন। আর তখন নির্বাচনী আবহাওয়াতে সবাই ভুলে যাবে নাস্তিক ইস্যুটি। সরকার তখন বলবে আমাদের আরেকবার সুযোগ দিন আগামীবার ক্ষমতায় এসে নাস্তিকদের ফাঁসিতে ঝুলাবো। অন্যদিকে লম্পট প্রতারকদের দল বিএনপিও তখন এটাকে কেন্দ্র করে ভোটের রাজনীতিতে ফায়দা লুটতে চাইবে।

এছাড়া আমরা যদি একটুখানি সুদূরপ্রসারী চিন্তা করি তাহলে সহজেই বুঝতে পারবোযে আগামীতে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে তার প্রথম কাজই হবে শুরুতেই ইসলামী দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া। কারণ সামনের বার আওয়ামীলীগ এই ভুল আর দ্বিতীয়বার করবে না অর্থাৎ ইসলামী দলগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে অকার্যকর করে দেয়ার নীতি সে আর নেবে না বরং প্রথম ধাক্কাতেই চেষ্টা করবে সবগুলো ইসলামী দলকে খতম করে দিতে। তাই তখন নিজেদের হেফাজত করতে গিয়েই ইসলামী দলগুলো হিমশিম খাবে।

অন্যদিকে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে তাহলেও নাস্তিকদের চিন্তিত হওয়ার কোন কারণ নেই। কারণ দলটি স্বভাবগতভাবেই কাপুরুষ এবং দুর্বল প্রকৃতির। তাছারা প্রায় দেউলিয়া হয়ে যাওয়া বিএনপি কখনো নাস্তিকদের ফাঁসী দিয়ে এবং ইসলাম বিরোধী ব্লগগুলো বন্ধ করে আওয়ামী মিডিয়ার রোষানলে পড়তে চাইবেনা। তাছাড়া ক্ষমতায় আসার সাথে সাথেই আওয়ামী মিডিয়া দলটিকে দৌড়ের উপর রাখবে। মনে আছে তো সবার- যখন ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এসেছিল তখন আওয়ামী মিডিয়া, আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠনগুলো এমনকি হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের মতো সংগঠনগুলো সারা বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা চালালেও মেরুদণ্ডহীন দল বিএনপি এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়নি। তাই এটা আশা করাটা বোকামী যে- বিএনপি ক্ষমতায় এলে নাস্তিকদের বিচার হবে।

তাই এটা স্পষ্ট যে, সরকার যদি হেফাজতে ইসলামের দাবি মেনেও নেয়, তাতে কোন অর্জন নেই সমস্যার সমাধান তো দূরের কথা। বরং এর দ্বারা সরকার মুসলিমদের টগবগ করে ফুটতে থাকা রক্তকে ঠাণ্ডা করবে, তাদের আবেগকে প্রশমিত করবে। তাই সুস্পষ্ট পরিষ্কার সমাধান সম্পর্কে ধারণা না থাকলে মুসলিমদের শক্তি (Energy) এবং উদ্দিপনার (Enthusiasm) নিঃসরণ (Discharge) হবে বৈকি কিন্তু কোন লক্ষ্য(Objective) অর্জিত (Achieve) হবে না।

প্রিয় হেফাজতে ইসলাম, বাংলাদেশে ইসলামী জাগরণ এবং ঐক্যের অভূতপূর্ব সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে তাই একে কাজে লাগানঃ

আজ এত বছর পর বাংলাদেশে ইসলামী ঐক্যের একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে আলেম উলামা এবং সাধারণ মুসলিমরা দ্বীন এবং ঈমানের হেফাজতের জন্য একত্রিত হয়েছেন যেটা পূর্বে কখনো ভাবা যেতো না। কারণ পূর্বে বাংলাদেশের ইসলামী দলগুলোকে নিজেদের মধ্যকার মনোমালিন্যের কারণে একত্রিত করাটা খুব কষ্টকর একটা কাজ ছিল। কিন্তু এবার আল্লাহ এই কাজটা সহজ করে দিয়েছেন। সবাই ইসলাম,ঈমান এবং সর্বোপরি দ্বীনী স্বার্থে এক কাতারে এসে গিয়েছেন। তাই একটি বিরাট আশা,সাহস এবং শক্তির সঞ্চার হয়েছে। একে অবশ্যই স্থায়ী এবং বৃহত্তর সমাধান অর্জনে কাজে লাগাতে হবে।

মদিনাতে রাসুল (স) কর্তৃক সর্বপ্রথম ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের সময়েও এমনটি হয়েছিল। মদিনার দুটি বড় এবং যুদ্ধবাজ গোত্র ছিল আউস এবং খাযরাজ। যারা শুধু নিজেদের মধ্যে মারামারি কাটাকাটি করতো। রাসুলের (স) মদিনা হিজরতের অল্প কিছুকাল আগেও তাদের মধ্যে ভয়াবহ বুয়াসের যুদ্ধ সঙ্ঘটিত হয় যাতে উভয় গোত্রের প্রায় সব সম্মানিত এবং নেতৃস্থানীয় লোকেরা প্রাণ হারায়। তারপর তারা দেখল যে এভাবে চলতে থাকলে তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। তাই তারা এমন কাউকেই খুজছিল যার মাধ্যমে তাদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা হতে পারে।

ঠিক তখনি, তারা যখন রাসুল(স) কে পেয়ে গেল; তারপর সহজেই তার দাওয়াত কবুল করে নিলো। এভাবে ইসলাম মদিনাবাসিকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি উম্মাহ গঠন করতে সক্ষম হয়েছিল যারা পরবর্তী সাড়ে তেরশত বছর যাবত ইসলামী খিলাফতের ছায়াতলে সমগ্র বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছিলো।

আজকে আবারো ইসলামই বাংলাদেশের আপামর মুসলিম জনতা এবং ইসলামী দলগুলোকে এককাতারে এনে দিয়েছে তাই এখনি সময়, একে কাজে লাগিয়ে ফিতনা যাতে চিরতরে নির্মূল হয়ে যায় সেই চেষ্টাই করা দরকার।

আল্লাহ্‌ (সূওতা)বলেন, ‘আল্লাহ্‌ কোন জাতির অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তনকরেন না- যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়’ (সূরা আর রাদঃ১১) ।

প্রিয় হেফাজতে ইসলাম, তাই বাংলাদেশ থেকে ইসলাম বিরোধী শক্তিকে চিরতরে নির্মূলের লক্ষ্যে লং মার্চে ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের এজেন্ডাকে অন্তর্ভুক্ত করুনঃ

রাসুল (স) বলেছেন, ‘’মুমিন একই গর্তে দুই বারদংশিত হয় না (বুখারি)’’ ।

তাই দেরী না করে এখনই লং মার্চের এজেন্ডাতে ইসলামী রাষ্ট্র তথা খিলাফত ব্যবস্থা কায়েমের ঘোষণাকে অন্তর্ভুক্ত করুন। একমাত্র খিলাফত ব্যবস্থাই বাংলাদেশসহ সমগ্রবিশ্বে ইসলাম এবং রাসুলের (স) মান সম্মানের হেফাজত করতে সক্ষম।


স্মরণ করুন ১৯২৪ সালে খিলাফত ধ্বংস হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কিভাবে ইসলামী রাষ্ট্রটি ইসলাম এবং রাসুলের (স) মান সম্মানের হেফাজত করে আসছিল। আপনাদের শুধুএকটিমাত্র ঘটনা মনে করিয়ে দিতে চাই। আশা করি বোঝার জন্য একটি ঘটনাই যথেষ্ট। ১৮৮৯সালে ফ্রান্স রাসুলকে (স) অপমান করে একটি নাটক মঞ্চস্থ করার সিদ্ধান্ত নেয়। নাটকটির রচয়িতা ছিল ফ্রেঞ্চ কবি হেনরি.ডি.বরনিয়ার। কিন্তু সেই সময়ে মুসলিম উম্মাহর খলিফাহ সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ নাটকটি বন্ধ করার জন্য ফ্রান্সকে নির্দেশ দেন এবং এর অন্যথা হলে জিহাদে আকবর ঘোষণার হুমকি প্রদান করেন। আর এতেই তৎকালীন বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি ফ্রান্স ভীত হয়ে নাটকটি মঞ্চস্থ করা থেকে সরে আসে। পরবর্তীতে ফ্রান্সকে অনুসরণ করে ব্রিটেনও ঐ নাটকটি মঞ্চস্থ করতে উদ্যোগ নেয় কিন্তু সেবারও খলিফার হুঙ্কারে তারা তা করতে সক্ষম হয়নি। দেখুন খিলাফতের একেবারে শেষের দিকের দুর্বলতম সময়েও ইসলামী রাষ্ট্র কিভাবে ইসলাম এবং রাসুল (স) এর মান ইজ্জতের হিফাজত করেছিল। এছাড়া সালাহউদ্দিন আইয়ুবি এবং নুরুদ্দিন জঙ্গির সময়ের ঘটনাগুলো দেখুন। সেখানেও দেখতে পাবেন রাসুলের(স) সম্মান রক্ষায় কেমন করে ইসলামী খিলাফত বাস্তবধর্মী এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছিল।

তাই সরকারের কাছে দাবি দাওয়া নয় বরং লক্ষ জনতার জাগরণকে কাজে লাগিয়ে সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র- খিলাফত কায়েমের মাধ্যমে চিরদিনের জন্য বাংলার জমিন থেকে ইসলাম বিরোধী চক্রকে উৎখাত করুন।

‘’ইমাম (খলিফাহ) হচ্ছেন ঢাল স্বরূপ, যার পেছনে মুসলিমরা যুদ্ধ করে এবং নিজেদের রক্ষা করে’’ (সহীহ মুসলিম)

লং মার্চ কি হারাম নাকি গনতান্ত্রিক রাজনীতির অংশ?!

 সত্য জানুন..!

এ বিষয়ে কোন ধরণের খাস দলিল প্রদান করার পূর্বে সর্বপ্রথম একটি উসুল বা মূলনীতি ভালো করে বুঝে নেয়া দরকার আর সেটি হোল ' আল হাদারাহ ওয়াল মাদানিয়া ' সংক্রান্ত মূলনীতি। হাদারাহ বলতে বোঝায় সভ্যতাকে যা জীবন সম্পর্কে একটি বিশেষ আক্কিদা বিশ্বাস থেকে উৎসারিত হয়। আর মাদানিয়া হোল বস্তুগত উপায় উপকরণ।

মুসলিমদের জন্য অমুসলিমদের হাদারাহ থেকে উৎসারিত কোন কিছু ব্যাবহারের অনুমতি নেই। অমুসলিমদের হাদারাহ থেকে উৎসারিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে তাদের আক্কিদা উৎসারিত বিষয়গুলো যেমন আইন কানুন, এমন কোন পোশাক পরিচ্ছেদ যাতে তাদের আক্কিদা বিশ্বাসের প্রতিফলন রয়েছে যেমন গেরুয়া পোশাক, পাদ্রীদের আলখাল্লা, ইহুদিদের লবনের বাটির মত গোল টুপি ইত্তাদি। এছাড়া যাকিছুই তাদের হাদারাহ থেকে উদ্ভূত তার সবই মুসলিমদের জন্য ব্যাবহার করা হারাম। আমরা এর আরও অনেক উদাহরণ দিতে পারি। যেমন মঙ্গল প্রদিপ বা কোন অনুষ্ঠানের পূর্বে মোমবাতি জ্বালানো হারাম কারণ এটা হিন্দুদের হাদারাহ থেকে উদ্ভূত। হিন্দুরা মোমবাতি এবং প্রদীপ জ্বালানোকে মঙ্গলের লক্ষন এবং অমঙ্গল প্রতিরোধক বলে মেনে থাকে। সুতরাং এটা সুস্পষ্ট শিরক। কারণ আমরা মুসলিমরা বিশ্বাস করি মঙ্গল-অমঙ্গল বা ভালো মন্দ একমাত্র আল্লাহ্‌র (সূওতা) পক্ষ থেকেই নির্ধারিত হয়।
তাই অমুসলিমদের হাদারাহ সক্রান্ত বিষয়গুলোই শুধু এই হাদিসের আওতায় আসবে যাতে রাসুল(স) বলেছেন, ''যে ভিন্ন জাতির অনুসরণ করবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে'' (আবু দাউদ)।

অন্যদিকে মাদানিয়া অর্থাৎ বস্তুগত উপায় উপকরণ হচ্ছে সার্বজনীন (Universal)। এগুলো কোন বিশেষ আক্কিদা বিশ্বাস থেকে উদ্ভূত নয় বিধায় এগুলো যেই আবিষ্কার করুক না কেন তা ব্যাবহার করা বা সেগুলোর নতুন নতুন সংস্করণ বের করা মুসলিমদের জন্য ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ বৈধ। মাদানিয়ার উদাহরণ দিতে গিয়ে আমরা বিভিন্ন টেকনোলজি অর্থাৎ প্রযুক্তি কথা বলতে পারি। যেমন বৈজ্ঞানিক লেব্রেটারি, কৃষি উপকরণসমূহ, মেডিক্যাল যত্রপাতি ইত্যাদি। এগুলো কোন ধর্মের আক্কিদা বিশ্বাস অর্থাৎ হাদারাহ থেকে উৎসারিত হয় নি তাই এগুলো সার্বজনীন বিধায় ইসলাম এগুলোর ওপর কোন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি। মুসলমানরা ইসলামের একেবারে প্রাথমিক যুগেও অমুসলিমদের কত্রিক আবিষ্কৃত মাদানিয়া ব্যাবহার করেছে। যেমন রাসুল (স) যুদ্ধের সময় খন্দক বা পরিখা খনন করেছিলেন যা ছিল পারস্যবাসীদের প্রযুক্তি এবং এটার সাথে মুসলিমরা পূর্বে অপরিচিত ছিল। এছারাও রাসুল(স) হজরত যায়েদ বিন সাবিতকে হিব্রু ভাষা শিক্ষা করার নির্দেশ দিলে তিনি তা মাত্র দশদিনে শিখে নেন। এছাড়াও রাসুল(স) একজন সাহাবাকে ইয়মেনে পাঠান ভালো মানের তলোয়ার তৈরি শিক্ষা করার জন্য এবং তখনো কিন্তু ইয়েমেন ইসলামের অধীনে আসেনি এবং এর অধিবাসীরা ছিল আহলে কিতাব তথা ইহুদি নাসারা। একিভাবে রাসুল(স) মেঞ্জানিক কামানের ব্যাবহার শেখার জন্য দুজন সাহাবাকে সিরিয়াতে পাঠিয়েছিলেন। এবং এই মিঞ্জানিক বা নিক্ষেপণ যন্ত্র ছিল রোমকদের প্রযুক্তি।

তাই আমরা বলতে চাই লং মার্চ এবং অবরোধ যদি অমুসলিমদের দ্বারা আবিষ্কৃত হয়েও থাকে তাতে কোন সমস্যা নেই কারণ এগুলো অমুসলিমদের হাদারাহ তথা আক্কিদা বিশ্বাস থেকে উৎসারিত নয় বরং এগুলো মাদানিয়ার মধ্যে পড়ে। তাই এগুলর ব্যাবহার মুসলমানদের জন্য বৈধ। যদিও এগুলো বৈধ হওয়ার আরও খাস দলিল রয়েছে কিন্তু স্ট্যাটাসের কলেবর বেড়ে যাওয়ার আশংকায় আমি আর সেগুলো উল্লেখ করছি না। কেননা আশা করি এটুকুই কাফি হবে ইনশাল্লাহ।

[বিঃদ্রঃ হরতালকে এর সাথে মিলিয়ে ফেলবেন না।]

ধর্মপ্রিয় মানুষের ধারণা ...

অবশেষে আমি বিরক্ত।
জামায়াতরে গালি দেই, কেননা উহা রাজাকার। উহা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি। উহারা ইসলামের মধ্যে নিজেদের খেয়াল খুশীমত পরিবর্তন ঘটায়। উহারা মাঝে মাঝে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর শান্তিপূর্ণ ভাবে ধংস করে। শান্তিপূর্ণভাবে পুলিশ পিটাইয়া রক্তাক্ত করে।
যখন ইসলাম সহ অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কে অকথ্য ভাষায় লেখালেখি করা হল, সরকারের পক্ষ থেকে সেসব লেখককে বীর আখ্যায়িত করা হল। গণজাগরণ মঞ্চের পশ্চাৎ দিয়ে প্রথম আইক্কাওয়ালা বাশটা তখনই মারা হল। ধর্ম বিদ্বেষীগুলোর পরিচয়ে পরিচিত হল শাহবাগ। ধর্মপ্রিয় মানুষের ধারণা হল, শাহবাগে যারা যায় সব নাস্তিক।
জনগণ ক্ষেপল, বিশেষত আলেম-হুজুররা ক্ষেপল। 'হেফাজতে ইসলাম' নাম নিয়ে আন্দোলন শুরু করল। তা ভাল কথা,

তাদের লক্ষ্য কি? ১৩ দফার মধ্যে মূল দাবি কি? ধর্ম বিদ্বেষী ব্লগারদের গ্রেফতার।
তারা কি যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিয়ে কথা বলে? না।
তারা কি ক্ষমতায় যাইতে চায়? না।
তারা কি জামায়াতের উপ্রে কে কখন হামলা চালাইছে তা নিয়া চিৎকুর পারে? না।
তাদের সাথে কোন রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক আছে? না।

তাইলে কার কার পশ্চাতে চুলকানীর ঠেলায় দাদ হইসে? জানতে মুঞ্চায়। হুদাকামে এই সম্মানিত আলেম সমাজের সাথে জামায়াতের মত দলের সামঞ্জস্যতা খুজতে পিছনে এত চুলকায় কেন?

আমরা আগে গালি দিসি জামাতরে, ভাল কথা। যৌক্তিক গালি। এখন আমরা যারা হেফাজতরে জামাত বানায়া ইহাকেও গালি দেই, তাহারা সত্যিই সাম্প্রদায়িক-ইসলাম বিদ্বেষী কি না? আমাদের এ সকল মানুষের পশ্চাতে কমপক্ষে সাড়ে বত্রিশ ইঞ্চি বাশ ভরা উচিত কিনা?

আজ ইসলামের বাশ দিতেসে, দুদিন পর সনাতন (হিন্দু) ধর্মরে দিবে, তারপর খ্রিস্টানদের...। তোদেরকে 'জামায়াত' বলে গালি দিলাম।
পরিশেষে, আমরা কিছু মানুষ যারা গণজাগরণ মঞ্চ ভালবাসি পাশাপাশি ধর্ম ভালবাসি, তারা কি কোনকালে গণজাগরণ মঞ্চ থেকে ধর্ম বিদ্বেষীদেরকে গ্রেফতারের জন্য আন্দোলন করেছি? আজ আলেম সমাজ আমাদের এ কাজ টুকু করে দিচ্ছে, তাদের তো ধন্যবাদ দেয়া উচিত।
----------------
লিখেছেন -------তরুন কান্তি।

রাসূলুল্লাহ (সা) এর প্রতি ভালোবাসা ও নাস্তিকতার মূল উৎপাটন


 بسم اللهالرحمن الرحيم



রাসূলুল্লাহ (সা) এর প্রতি ভালোবাসা ও নাস্তিকতার মূল উৎপাটন

আল্লাহ্ তা’আলা রাসূল (সাঃ) সম্পর্কেবলেন,

হে নবী! আমি আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি। (আহজাব: ৪৫)

রাসূল (সা) এর প্রতি ভালবাসা বলতে বোঝায় তাকে মান্য করাএবং তাকে সৃষ্টি কূলের মাঝেসর্বশ্রেষ্ট মনে করা। আল বাইদাওয়ী বলেন ভালবাসা হচ্ছে মান্য করার ইচ্ছা করা। আরবি ভাষায় ভালবাসা মানে কাউকে সু-উচ্চে তুলে ধরার ইচ্ছা করা।

ভালোবাসা হচ্ছে কোন কিছুর প্রতি তাড়না যা মানুষের সেইবিষয়ের প্রতি আচরণ নির্ধারণকরে। এই তাড়না হতে পারে প্রবৃত্তিগত যার সাথে কোন দৃষ্টিভঙ্গীর সম্পর্ক নেই, যেমন: মানুষের তাড়না মালিকানার প্রতি, বেঁচে থাকার জন্য, ন্যায়ের জন্য,পরিবার-সন্তানের জন্য ইত্যাদি।

আবার তাড়না হতে পারে কোন নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গীর ভিত্তিতেযা তার আচরণকে সুগঠিতকরবে। তাই ইসলাম রাসূল (সা) এর প্রতি ভালবাসাকে ফরয করেছে। এবং এই ব্যপারে দলীল হল:

আল্লাহ্ বলেন,

বল, তোমাদের নিকট যদিতোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের পরিবার,তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদেরবাসস্থান- যাকে তোমরা পছন্দ কর - আল্লাহ্, তার রাসূল ও তার রাহে জেহাদ করা থেকেঅধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর, আল্লাহর বিধান আসাপর্যন্ত, আর আল্লাহ্ ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না। (তাওবা: ২৪)

ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহুথেকে তার সহীহ গ্রন্থেবর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম বলেন,

“শপথ ঐ সত্ত্বার যার হাতে আমার প্রাণ! তোমাদের কেউই ঈমানদারহবে না যতক্ষণ না আমি তারকাছে তার পিতা ও সন্তান হতে অধিকতর প্রিয় হব”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৩]

সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেবর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

“তোমাদের কেউই ঈমানদার হবে না যতক্ষণ আমি তার কাছে তার পিতা-মাতা,সন্তান ও সকল মানুষ হতে প্রিয় না হই”। [সহীহ বুখারী,হাদীস নং ১৫, সহীহমুসলিম, হাদীস নং ১৭৮]

হযরত ওমর (রাঃ) একবার বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি আমার নিকট আমার জীবন ব্যতীত অন্য সমস্ত বস্তু হতে অধিক প্রিয় । হুযুর (সাঃ) বললেন, কোন ব্যাক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতেপারবেনা যতক্ষণ পর্যন্ত আমার মহব্বত তার নিকট তার জীবনের চাইতেও বেশী না হইবে । হযরত উমর (রাঃ) বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এখন আপনি আমার নিকট আমারজীবনের চাইতেও বেশী প্রিয় । (বুখারী)

রাসূল (সাঃ) বলেছেন, মানুষের হাশর হবে তার সাথে যার সাথে তার মহব্বত রয়েছে । (মুসনাদে আহমাদ)

উপরোক্ত আয়াত ও হাদীস থেকে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি মহব্বত ও ভালোবাসা পোষণ না করলে ঈমানদার বলে কেউ বিবেচিত হবে না। অতএব ঈমানের অনিবার্য দাবী হল- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসা।

আমরা যদি সাহাবাদের (রাঃ) রাসূলের প্রতি ভালবাসার দিকেতাকাই তাহলে দেখব তারা কতটাউৎসাহী ছিলেনরাসূল (সাঃ)-এর প্রতি ভালবাসা দেখাতে, তার (সাঃ) আদেশ মানতে, তারা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করতেন ভালবাসার এই দায়িত্ব পালন করতে।

উহুদের যুদ্ধের বর্ণনা দিতে গিয়ে আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন,যখন সকলে রাসুল (সাঃ) কেরেখে চলে যাচ্ছিল, আবু তালহা (রাঃ) তখন বর্মের মত রাসুল (সা)এর সামনে দাড়িয়েছিল। আবু তালহা ছিলেন একজন অভিজ্ঞ এবং শক্তিশালী তীরন্দাজ যার ধনুক ছিল শক্ত ও প্রসারিত। সেদিন তিনি দু থকে তিনটি ধনুক ভেঙে ফেলেন। যখন কেউ রাসুল (সাঃ) এর সামনে দিয়ে পাত্র ভর্তি তীর নিয়েযেত রাসুল (সাঃ) তা আবুতালহার জন্য দিয়ে যেতে বলছিলেন। যখন রাসুল (সাঃ) শত্রুদেরদেখার জন্য মাথাতুলছিলেন আবু তালহা বলেন “আমার পিতা মাতাআপনার উপর কুরবান হোক, আপনার মাথাশত্রুদের দেখতে দিবেন না, আমার গলা এবং বুকআহাত হোক তার পরও যেন আপনারগায়ে একটি তীরও না লাগে। (বুখারী ও মুসলিম)

সাহাবারা রাসূল (সাঃ) এত ভালবাসতেন এবং তার রক্ষা করার জন্যজীবন দিয়ে দিতেন এমনকি তাদেরশিশুদেরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে বলতেন যাতে রাসুলের (সাঃ) গায়ে যেন নুন্যতম আঘাত না লাগে। মুসলিমরা আল্লাহ্তালা রাসুল (সাঃ) কে সবচেয়েবেশি ভালবাসেন কারন তিনিই হচ্ছেন হাশরের ময়দানে শাফায়েত কারী,

আবূ হুরাইরা [রাঃ] থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ [সাঃ] বলেন: “আমি রোজ কিয়ামতে মানুষের সরদার-নেতা হব। যে দিন মানব মণ্ডলী আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে এবং সূর্য থাকবে মাথার খুব কাছে। মানুষের দুশ্চিন্তা ও বিপদের চরম পর্যায়ে পৌঁছবে। এমন বিপদ যা তাদেরশক্তির বাহিরে এবং সহ্য করাও বড় কঠিন হয়ে পড়বে। ওরা একে অপরকেবলবে: তোমরা একজনকে পাওনা যিনি তোমাদের প্রতিপালকের নিকট তোমাদের জন্য সুপারিশ করবেন?

তারা একে অপরকে বলবে: চল আদম [আঃ]-এর নিকট। সকলে আদম [আঃ]-এর নিকটে গিয়ে বলবে: হে আদম [আঃ] আপনি মানুষের পিতা। আল্লাহ আপনাকেতাঁর নিজ হাতে সৃষ্টি করে আপনার মাঝে তাঁর রুহ ফুঁকেছেন। ফেরেশতাগণকে নির্দেশকরেছেন আর তাঁরা আপনাকেসেজদা করেছেন। আপনার রবরে নিকট আমাদের জন্য সুপারিশকরুন। আমরা কি অবস্থায় আপনি দেখেন না!? আমরা কী চরমপর্যায় পৌঁছেছি দেখেন না? বাবা আদম [আঃ] বলবেন: নিশ্চয়ই আমার রব-প্রতিপালক আজ এমন রাগ হয়েছেনযা ইতিপূর্বে কখনো রাগ হননি। আর এর পরেও কখনও এরূপ রাগ হবেন না। আল্লাহ তা‘য়ালা আমাকে গাছের ফল খেতে নিষেধ করেছিলেন আর আমি তার নাফরমানি করেছিলাম। নাফসী নাফসী (আমি নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত আছি) তোমরা অন্যকারো নিকটে যাও। তারা যথাক্রমে: নূহ, ইবরাহীম, মূসা ও ঈসা (আ:)- এর নিকটে যাবে। কিন্তু সকলে ওজর পেশ করবেন। তাঁরা সকলে বলবেন: নিশ্চয়ই আমার রব আজ এমন রাগ হয়েছেন যা ইতিপূর্বে কখনো রাগ হন নাই এবং এরপরেও কখনো এরূপ রাগহবেন না। নাফসী নাফসী (আমি নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত আছি)। অত:পর ঈসা [আঃ] বলবেন:তোমরা মুহাম্মাদ [সাঃ]-এর নিকটে যাও। তারা সকলে আমার নিকটে আসবে। অত:পর বলবে: হে মুহাম্মাদ [সাঃ] আপনি আল্লাহর রাসূল, শেষ নবী,আল্লাহ আপনার আগের-পরের সকল পাপ ক্ষমা করে দিয়েছেন। আপনি আমাদের জন্য আপনার রবের কাছে সুপারিশ করুন। তখন আমি অগ্রসর হয়ে আরশেরনীচে যেয়ে আমার রবের জন্যে দীর্ঘ সেজদায় পড়ে যাব। অত:পর আল্লাহ আমার প্রতিতাঁর প্রশংসা ও শুকরিয়া করার জন্য অন্তর খুলে দিবেন ও এমন ইলহাম (আল্লাহ কর্তৃক অন্তরে প্রদত্ত জ্ঞান) দান করবেনযা আমার পূর্বে আর কারোজন্য খুলে দেননি। অত:পর বলা হবে: হে মুহাম্মাদ [সাঃ]! তোমারমাথা উঠাও। চাও দেয়া হবে। সুপারিশ কর গ্রহণ করা হবে। তখন আমি মাথা উঠাব এবং বলব: হে আমার প্রতিপালক! আমার উম্মত! আমার উম্মত! বলা হবে: হে মুহাম্মাদ[সাঃ]! তোমার উম্মতের যাদের কোন হিসাব নেই তাদেরকে জান্নাতেরডান দরজা দিয়ে জান্নাতেপ্রবেশ করাও। তারা মানুষের সঙ্গে অন্য সকল দরজায়অংশীদার। যাঁর হাতে মুহাম্মাদের জীবন! নিশ্চয়জান্নাতের দরজার দূ পাল্লার মধ্যের দূরত্ব মক্কা ও হাজার বা মক্কা ও বুছরার দূরত্বের সমান।” (বূখারী হাদীস নং ৪৭১২;মুসলিম হাদীস নং ১৯৪ শব্দ তারই)

যে রাসূল তার উম্মতকে ছাড়া জান্নাতে যাবেন না মুসলিমরাতাকে (সাঃ) প্রাণের চেয়ে বেশিভালবাসবে না তো কাকে ভালবাসবে। তাই প্রত্যেকমুসলিমের জন্য বাধ্যতামূলকহল রাসূল (সাঃ) নাম শুনলে তার উপর সালাম নিবেদন করা কারণ, তিরমিযীর একটি বর্ণনায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

“ঐ ব্যক্তির নাক ধুলি ধুসরিত হোক যার কাছে আমার উল্লেখ করাহয় কিন্তু সে আমার উপর সালাত পাঠ করেনি”।

কিন্তু বর্তমানে বাংলার মাটিতে কী জঘন্য ভাবে দশকের পর দশককিছু কুলাঙ্গার আমাদেরপ্রান প্রিয় রাসুল (সাঃ) কে নিয়ে তার পরিবার কে নিয়ে ,সাহাবা (রাঃ) কে নিয়ে ইসলামের বিধি বিধান ওমুসলিমদের নিয়ে একের পর এক কুৎসা রটাচ্ছে।

(সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে অবশ্যই সবচেয়ে নীচ সৃষ্টি হচ্ছে যারাআল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচারন করে) [সূরা আল-মুজাদিলাহ্: ২০]

এবং এটা পানির মত পরিষ্কার যে আমাদের শাসকরা প্রতিনিয়তএদের রক্ষা করার কলাকৌশলব্যবহার করছে এবং নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ব্যবহার করছে। বস্তুত এই শাসকরাই আমেরিকা-ব্রিটেন-ভারতের সুস্পষ্ট মদদেতাদের মতাদর্শে মোহিত হয়েএই কুলাঙ্গারদের তৈরি করছে আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্তার মাধ্যমে। যেখানে ইসলামকেশুধু মাত্র ধর্মীয় রীতিনিত বানিয়ে ইসলামকে সমাজের, রাষ্ট্রের সমস্যাসমাধানের জন্য অক্ষম হিসেবে দেখান হচ্ছে এবং সকল নাস্তিক কুলাঙ্গারদের এর জন্য লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। আর তাদের একের পর এক আক্রমণে মুসল্লিম উম্মাহর ভালবাসার হৃদয়একের পর এক ক্ষত বিক্ষত হচ্ছে। আজ আবারও আমেরিকা-ব্রিটেন-ভারতের সুস্পষ্টমদদে এই নাস্তিকরা আস্ফালন দেখাচ্ছিল।

মুলতঃ তাদের মুখ থেকে যা বাহির হয় তাই ঘৃণ্য; তারা যাই বলে তাই মিথ্যা। (সূরা আল-কাহ্ফ)

আজ যখন মুসলিম উম্মাহর তরুণ-বৃদ্ধ সকলে যখন আমেরিকা-ব্রিটেন-ভারতের সুস্পষ্ট মদদ পুষ্ট এই নাস্তিকদেরবিরুদ্ধে সোচ্চার ঠিক তখনই হাসিনা-খালেদারা আবার ইসলামের এই আন্দোলনকে নিজেদের পকেটে ভরে গণতন্ত্রের নষ্ট নির্বাচনের রাজনীতির মাধ্যমে রাসুল (সাঃ)এর প্রতি আমাদের ভালবাসাকে কলুষিত করতে চেষ্টা করছে।

হে মুসলিম উম্মাহ,

এই হাসিনা-খালেদারা কখনই ইসলামের ভাল চায়নি তারা সবসময়বাক-স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ইত্যাদি কুফরি মতবাদের নামেআমেরিকা-ব্রিটেন-ভারতের সুস্পষ্ট মদদ পুষ্ট এই সব নাস্তিকদের লালন করেছে। তাই আজ আপনাদের এইআন্দোলনকে তাদের স্বার্থেব্যবহৃত হতে দিবেন না। বরং এরাই হচ্ছে আমেরিকা-ব্রিটেন-ভারতের সুস্পষ্ট মদ পুষ্ট নাস্তিকদের রক্ষক বানাস্তিকদের মাওলা। তাই আজ আপনাদের আন্দোলন হতে হবে আমেরিকা-ব্রিটেন-ভারতের সুস্পষ্ট মদদ পুষ্টহাসিনা-খালেদার বিরুদ্ধেএবং খিলাফত প্রতিষ্টার পক্ষে যাতে বাংলার মাটিতে আর কেউ যেন রাসুল (সাঃ)-এর অপমান করতে না পারে।

হযরত উমর (রা) বলেন, আল্লাহর শপথ! কুরআন দিয়ে আল্লাহ যতটুকু রক্ষা ও প্রতিহতকরেন, রাষ্ট্রশক্তির(খিলাফতের) মাধ্যমে আল্লাহ তার চেয়েও বেশি রক্ষা ও প্রতিহত করেন [কানজুল উম্মাল, হাদীস নং: ১৪২৮৪, তারিখে ইমাম আল-খাত্তাবি] 


যদি আজ বাংলাদেশে খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত থাকতো তাহলেমুসলিমদের এমন অপমানজনক ওদুর্দশাগ্রস্ত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না, নাস্তিকরা উম্মাহররাসূল (সা:) এর বিরুদ্ধে এমন ঘৃণ্য কর্মকান্ড করার দু:সাহস দেখাতে পারতো না এবং হুঙ্কার দিয়ে শাহবাগেতাদের উপস্থিতি দেখাতে পারতনা, কারণ খিলাফত ইসলাম ও মুসলিমদের রক্ষাকারী নয়বরং এটা হচ্ছে ঢালস্বরুপ ও দূর্বোধ্য নিরাপদ এক দূর্গ। প্রিয় মুসলিমগণ! উনিশশতকের শেষদিকে, ১৮৯০ সালে, ফরাসী লেখক “মারসী ডি বোরেজ” একটি নাটকতৈরি করে ফ্রেঞ্চ কমেডি থিয়েটারে প্রচারের জন্য, যার সমস্ত কাহিনীইরচনা করা হয়েছিল আল্লাহ্ রাসূল (সা:) কে অবমাননা করে। বিষয়টি যখন খলীফাসুলতান ২য় আব্দুল হামিদ (রহ:) এর কানে গেল,তখন তিনি সাথে সাথে ফরাসী সরকারকে সাবধান করে দিলেন যাতে এ নাটকটি নিষিদ্ধ করা হয় এবং কোনথিয়েটারে যেন মঞ্চস্থ না হয়। সুতরাং, ফরাসী সরকার তা করতে বাধ্য হয় এবংখলীফার কথামত নাটকটি প্রচার নিষিদ্ধ করে এবং খলীফার নিকট চিঠিতে উত্তর পাঠায়: “মহামান্য সুলতানের ইচ্ছামত আমরা যে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি, তাতে বিশ্বাস আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও উন্নত হবে”, এবং যখননাটকটির নির্মাতা ফ্রান্সে সুযোগ না পেয়ে ইংল্যান্ডের অ্যালসিওম থিয়েটারে মঞ্চস্থ করার প্রস্তুতি নেয়, এবং যখন বিষয়টি সুলতান আব্দুল হামিদের কানে পৌঁছায়, তিনি সাথে সাথে নাটকটিনিষিদ্ধ করার হুমকি দেন এবং তা নিষিদ্ধ করা হয়। শুধু তাই নয় তৎকালীন পরাশক্তিবৃটেন এ ঘটনার জন্য খলীফার কাছে দুঃখ প্রকাশ করে।

দেখুন যেখানে বিশ্বের পরাশক্তিরা খলীফার ভয়ে থাকত সেখানেনাস্তিকরাতো চুনোপুটি।

তাই আমি আপনাদের সজাগ করছি যে,

হাসিনা-খালেদার দলীয় স্বার্থে ইসলামের এই আবেগকে ব্যবহারকরবেন না, হাসিনা বা খালেদার বিজয় কখনই ইসলামের বিজয় নয় বরং তাদের বিজয় আমেরিকা-ব্রিটেন-ভারতের বিজয়। কারণ তারা উভয়ে একই মুদ্রার দুই পিঠ এবং তারা উভয়েই বাংলাদেশে আমেরিকা-ব্রিটেন-ভারতের স্বার্থেররক্ষক এবং মুসলিমদের শত্রুদেরবন্ধু। আল্লাহ্‌ বলেন,

হে মুমিনগণ, তোমরা ইহুদী ওখ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ্ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না। (মায়েদা: ৫১)

তাই মুসলিমদের এই জাগরণ হতে হবে খিলাফতের উত্থান, পশ্চিমারা ক্রসেড ঘোষণা করেছে এবং এ ক্রসেড ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে;সুতরাং দ্বীন ইসলাম, রাসূল (সা:) এবং উম্মাহ্’র পক্ষে অবস্থাননিন এবং জেনে রাখুন এ অবস্থার পরিবর্তন ততক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব নয় যতক্ষণ পর্যন্ত না পূর্বে যেভাবে সমাধান হয়েছিল ঠিক একইভাবে সমাধান না করা হয়অর্থাৎনবুয়্যতের আদলে খিলাফায়ে রাশেদাহ্ প্রতিষ্ঠিত না হয়। সুতরাং খিলাফতরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগকারীদেরসাথে যোগ দিন, তাদের সমর্থন করুন, একমাত্র খিলাফত উম্মাহ্ ও তার সম্মান রক্ষা করবে এবং যালিমদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।

আল্লাহ তা’আলা বলেন,

হে ঈমানদারগণ, আল্লাহ্ ওতার রাসূলের ডাকে সাড়া দাও, যখন তোমাদের সেকাজের প্রতি আহবান করাহয়, যা তোমাদের মাঝে জীবনের সঞ্চার করে। (আনফাল: ২৪).
---------------Ibn Sarkar Touhid

Link: http://www.facebook.com/notes/ibn-sarkar-touhid/%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B9-%E0%A6%B8%E0%A6%BE-%E0%A6%8F%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BE-%E0%A6%93-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2-%E0%A6%89%E0%A7%8E%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A6%A8/321902141271886

...সেই সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রী-কন্যাদের কাছে উত্তম

কোন জাতির চেতনার উত্‍স মানে, "যেই উত্‍স হইতে ঐ জাতির ঐক্যবদ্ধ থাকিবার চেতনা মিলে এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে জাতিকে উদ্দীপ্ত করে।"
ইসলামে জীবনবিধান এবং চেতনা একটি উত্‍স হইতেই আসে। তাহা হইল 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। ইসলামের বিজয়গাঁথা কিংবা মহান ইতিহাস আমাদিগকে প্রেরণা যোগায়, উদ্দীপ্ত করে।

আইয়্যামে জাহেলিয়াতে ওইখানকার গোত্রপতিগণ তত্‍কালীন মক্কার পার্লামেন্ট 'দারুন নদওয়াতে' মিলিত হইয়া তাহাদের গোত্রীয় বিধান তৈরী করিত। আবার তাহাদের প্রত্যেক গোত্রের আলাদা করিয়া মূর্তি ছিল। যাহা ছিল তাহাদের ঐক্য ও চেতনার উত্‍স। সবগুলো গোত্র আবার উঁচু পাহাড়ে স্থাপিত দৈত্যাকার হুবাল মূর্তিকে শ্রদ্ধা করিত। মানে কিছু মূর্তি গোত্রীয় চেতনা জাগাইত আর লাত, মানাত, উজ্জা আর হুবাল জাতীয় ঐক্যের প্রতিক ছিল।
ইসলাম আসিয়া তাহাদের যেমন আইন তৈরীর ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করে , তেমনি ঐক্যের প্রতিক এইসব মূর্তির অসারতা তুলিয়া ধরে। তখনি আবু জাহলরা খেপিয়া উঠে আর তাহাদের জাতীয় চেতনা জাগাইতে মক্কার কবিগণকে লাত, মানাত, উজ্জার মহিমা নিয়া উদ্দীপক কবিতার আসর বসাইত। ঠিক তেমনি করিয়া নও মুসলিমদের যখন পিটাইত তখন আবু জাহল, "ওয়া লাত ওয়াল উজ্জা" বলিয়া শপথ করিয়া পিটাইত। আর উমাইয়া ইবনে খালফ যখন একি শপথ করিয়া এই উম্মাহর লৌহপুরুষ হযরত বিলালকে(রাঃ) আঘাত করিতেছিল তখন ঐ ধৈর্য্যের পাহাড় চিত্‍কার করিয়া বলিতেছিলেন, "আহাদুন আহাদ"।

একিসময়ে রাসূল(সাঃ)কে প্রস্তাব দেওয়া হইতেছিল ঐ দারুন নদওয়াতে অংশগ্রহন করিতে। এমনকি ওইখানকার প্রধান হইয়া যাইতে। কিন্তু রাসূল(সাঃ) কোনরূপ কৌশলের নাম দিয়াও পরিপূর্ণ ইসলাম ব্যতিত ঐ সংসদে অংশগ্রহণ করেন নাই। আবার অনেক গোত্র বলিয়াছিল ঠিক আছে আমরা ইসলাম নিব তবে বছরে একদিন আমাদের মূর্তি হইতে চেতনা নিতে দাও। কিন্তু রাসূল(সাঃ) ইহাতেও রাজি হন নাই। অবশেষে মদীনা হইতে পরিপূর্ণ আনুগত্যের শপথ পাওয়ার পর ওইখানে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়।

আজকেও আমরা দেখি আইন মানুষ তৈরী করিতেছে সংসদে। চেতনার উত্‍সরূপে প্রতিটি মোড়ে মূর্তির সমারোহ আর পুরো জাতির ঐক্যের প্রতিকরূপে বিশাল মিনার আর সৌধের হুবাল আর লাত মানাতের উপস্থিতি। আবার আবু জাহলের মত ওয়া লাত ওয়াল মানাতের জায়গায় হাজার বছরের বাঙালী ঐতিহ্য আর বিশেষ দিবসের স্মরণে স্থাপিত চেতনামূর্তির কসম দিয়া ইসলামকে দমন করিবার চেষ্টা। সব কেমন করিয়া মিলিয়া যাইতেছে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হইতেছে।

তাই আজ যাহারা পূঁজার মৃর্তি আর চেতনার মূর্তির পার্থক্য করিতেছেন তাহারা মুসলিমদের সুস্পষ্ট ধোঁকায় ফেলিতেছেন। আবার যেইসমস্ত ইসলামী দল জাতীয় পতাকা নিয়া আন্দোলন করিয়া ইসলাম প্রতিষ্ঠার আশা করিতেছেন তাহারাও মূলত বছরে একদিন মূর্তিচেতনার মত ঐসমস্ত সৌধ আর মিনারের স্বীকৃতি দিয়া যাইতেছেন যাহা সুস্পষ্ট কুফর।

তাই এখনো যদি আপনাদের সঠিক ইসলাম বুঝিবার চেতনা না জাগে তবে জানিয়া রাখুন এই সমস্ত জাতীয় চেতনার ইসলামী আন্দোলনে যদি ১০কোটি মানুষও হয়, তবু ইসলাম প্রতিষ্ঠা হইবে না। বড়জোর আপনারা ক্ষমতায় আসিবেন। গত কিছুদিন আগে হেফাজতের বিশাল সমাবেশে 'রায়া' নিয়া উনাদের বলিয়াছিলাম জাতীয় পতাকা নামাইয়া কলেমাকে উপরে রাখিতে। বিনিময়ে তীব্র ভত্‍সনা শুনিতে হইয়াছিল। আবার বিশাল জাতীয়া পতাকা নিয়া আসা অপর এক ইসলামী দলকে এই কথাগুলো বলিয়া আরেকটু হইলে মার খাইবার উপক্রম। তাই আল্লাহর নিকট খালি সকল মুসলিমকে সঠিক পথ দেখাইবার প্রার্থনা করি।
 
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মেয়েদের উত্যক্ত করলে নারী অবমাননা হয় না।

X ধর্ষনের সেঞ্চুরী করে মহানন্দে মহাসমারোহে পার্টি দিলে নারী অবমাননা হয় না।

X একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মহীয়সী নারীদের উপর"কলম যোদ্ধা"-দের ক্রমাগত আক্রমনে নারী অবমাননা হয় না।

X ক্ষমতাসীন চেয়ারম্যান কর্তৃক বাচ্চা মেয়েকেধর্ষনেও নারী অবমাননা হয় না।

X ইডেন কলেজে হিজাবী মেয়েদের উপর আক্রমনে নারীঅবমাননা হয় না।

X প্রধানমন্ত্রীরে ­ নিয়া আসিফের অশালীন মন্তব্যে নারী অবমাননা হয় না।

X বিরোধীদলীয় নেত্রী আর মহিলা এমপিদের নোংরা গালিগালাজে নারী অবমাননা হয় না।

X এমনকি লাকী আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠালেও কিন্তু নারী অবমাননা হয় না।

নারী অবমাননা হয় শুধু নারী পুরুষ অবাধ মেলামেশার বিপক্ষে দাবী জানালে।

শেখার কোন বয়স নাই, এভাবেই শিখে যাচ্ছি..!
একমাত্র ইসলামই দিয়েছে ‌নারীর সম্মান, মর্যাদা ও অধিকারঃ

বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যে বিষয়টি নিয়ে পাশ্চাত্য খুবই শোরগোল করছে। যার সূত্র ধরে ইসলাম বিরোধী অপশক্তিগুলোও ইসলামের উপর কালিমা লেপনের অপচেষ্টায় আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে, পশ্চিমাদের এজেন্ট, কুফরী শক্তির দালালরা ইসলাম ও মুসলিমদের তাহযীব-তামাদ্দুনকে সমূলে ধ্বংস করে মুসলিম উম্মাহকে চিরতরে পঙ্গু করার জন্য যেই ভয়ংকর মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে তার নাম হচ্ছে - নারী অধিকার, নারী স্বাধীনতা। আর এ বিষয়টির ক্ষেত্রে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গী কি সে সম্পর্কে অনেকেই অনেকভাবে, অনেক আঙ্গিকে লিখেছেন। আমি আমার এই লেখায় কুরআন-সুন্নাহ এবং বাস্তবতার আলোকে আমার উপলব্ধি টুকু শেয়ার করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

বর্তমান পাশ্চাত্য এবং ইসলাম বিদ্বেষী অপশক্তি আজ অত্যন্ত কৌশলে মুসলিম উম্মাহর নারীদেরকে টার্গেট করেছে। তারা মুসলিম পারিবারিক ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে দেয়ার নীল নকশা বাস্তবায়নের জন্য নারীদেরকে রাস্তায় নামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। অধিকার কিংবা আর্থিক স্বনির্ভরতার টোপ ফেলে তারা সহজ-সরল মুসলিম রমণীদেরকে হিজাব ও পর্দার সবচেয়ে নিরাপদ স্থান তাদের ঘর থেকে তাদেরকে মাঠে ময়দানে টেনে আনার অপচেষ্টা করছে।

বাস্তবতার মাথা খেয়ে স্বার্থান্ধ একদল অপরদিকে বলে চলেছে যে, ইসলাম নারীকে শেকল পরিয়ে চার দেয়ালের মাঝে বন্দী করে রেখেছে। ইসলাম নারীকে তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। তাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে জুলুমের বোঝা -নাউযুবিল্লাহ।

নারী সম্পর্কিত এধরণের হাজারো অভিযোগ আজ চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে ইসলামের উপর। বাঁধ ভাঙ্গা স্রোতের মতো বিষোদ্গারের ঢল নামানো হচ্ছে। অথচ বাস্তবতা হলো এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আমি বলবো, কেবলমাত্র ইসলামই এমন এক দীন বা জীবন ব্যবস্থা, যা নারী জাতিকে তাদের ন্যায্য অধিকার দিয়েছে। তাদেরকে সমাসীন করেছে সম্মান ও মর্যাদার সর্বোচ্চ আসনে। আর হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ই একমাত্র ব্যক্তিত্ব যিনি নারীদের সকল অধিকার আদায় করে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। সমাজের বুকে নারীদের সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করে দেখিয়ে দিয়েছেন। যদি আমরা ইসলাম পূর্ব আইয়্যামে জাহেলিয়াত ও ইসলাম পরবর্তী সময়ের নারীদের অবস্থা ও অবস্থানের দিকে তাকাই তাহলে বিষয়টি দিবালোকের মতো সুস্পষ্ট হয়ে যাবে।

নারী জন্মের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামঃ

ইসলাম আসার পূর্বে সেই আইয়ামে জাহেলিয়াতে নারীদেরকে সামাজিক মর্যাদা দেয়া তো দূরের কথা তাদের বেঁচে থাকার অধিকার পর্যন্ত ছিলো না। কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণের কথা শ্রবণ করার সাথে সাথেই সকলের মুখ কালো হয়ে যেতো। তাকে জীবন্ত মাটিতে পুঁতে ফেলার জন্য সকলে আয়োজনে ব্যতি ব্যস্ত হয়ে উঠতো এবং এই কন্যা সন্তানকে মাটিতে জীবন্ত প্রোথিত করাকেই নিজেদের জন্য সম্মান, মর্যাদা ও পুন্যের কাজ বলে মনে করতো। জাহেলী যুগের সেই সময়কার ভয়বহ এই অবস্থার কথা তুলে ধরে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছেঃ

“আর যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয়; তখন তার চেহারা কালো হয়ে যায়। আর সে থাকে দুঃখ ভারাক্রান্ত। তাকে যে সংবাদ দেয়া হয়েছে, সে দুঃখে সে কওমের থেকে আত্মগোপন করে। আপমান সত্ত্বেও কি একে রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে ফেলবে? জেনে রেখ, তারা যা ফয়সালা করে, তা কতই না মন্দ!” - (সুরা নাহলঃ আয়াত ৫৮, ৫৯)

ইসলাম পূর্ব আরব সমাজে নারীদের অবস্থা এমনই ছিলো। এমনকি ইসলাম ব্যতীত অন্য সকল ধর্মে আজ পর্যন্ত নারী জাতির অধিকারের কোনো স্বীকৃতি দেয়া হয়নি।

হিন্দুধর্মে নারী জাতিকে মৃত্যু, নরক, সর্প, বীষ ও আগুন থেকেও মারাত্মক বলা হয়েছে। স্বামী ছাড়া নারী জাতির আলাদা কোনো অস্তিত্বকে স্বীকার করা হয় নি। যার কারণে স্বামী মারা গেলে স্ত্রীকেও তার স্বামীর সাথে সহমরণে যেতে বাধ্য করার কথা বলা হয়েছে।

খৃষ্টান ধর্মে নারী জাতিকে চরম লাঞ্চনার বস্তু বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাই তো খৃষ্টান পাদ্রী মি: সেন্ট টার্টুলিয়ামের মতে, নারী হচ্ছে বন্য জন্তুর চেয়েও অধিক বিপদজনক। অন্য আরেক পাদ্রী সেন্ট ক্রিয়ান নারীকে বীষধর সাপের সাথে তুলনা করে তার থেকে দূরে সরে থাকতে বলেছেন। সপ্তদশ শতকে খৃষ্টধর্মের রাজধানী রোমে বিত্তবানদের একটি কাউন্সিল সমবেত সকল শীর্ষ ব্যক্তি এই মর্মে সর্বসম্মতিক্রমে একমত হয়েছিল যে, নারীর কোন আত্মা নেই।

ইহুদী ধর্মে নারীকে পুরুষের জন্য প্রতারক বলা হয়েছে। তাদের মতে একজন সতী নারীর চেয়ে একজন পাপিষ্ট পুরুষ বহু গুণে শ্রেষ্ঠ।

বৌদ্ধধর্মে কন্যা সন্তান জন্ম লাভ করাকে অলক্ষণীয় বলে মনে করা হয়। নারীর কোনো অধিকার আছে বলে স্বীকৃতি দেয় না।

এভাবে ইসলাম ছাড়া অন্য সকল ধর্মেই নারী জাতিকে পাপিষ্ট, অলুক্ষুণে, অপয়া ও ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদেরকে কোনো অধিকার দেয়া তো দূরের কথা, তাদেরকে মানুষ বলেই স্বীকার করা হয়নি। তারা নারীদেরকে কেবলমাত্র ভোগের পণ্য হিসেবেই গণনা করতো। - এমনিভাবে সর্বত্রই যখন নারী জাতির এমন লাঞ্চনা-গঞ্জনা আর অসম্মান ঠিক সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তে ইসলাম এসে তৎকালীন সেই বর্বর যুগের অমানুষিক জুলুম থেকে নারীকে মুক্ত করেছে। ইসলামই একমাত্র দীন -যা নারী জাতিকে ফিরিয়ে দিয়েছে তাদের যথাযথ অধিকার।

ইসলাম এসে ধাপে ধাপে নারী জাতিকে তাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, সম্মান ও মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। যেই সমাজে নারী জন্মই পাপ বলে গণ্য হতো সেখানে ইসলাম সর্বপ্রথমই নারীজন্মের অধিকার নিশ্চিত করেছে। নারী সন্তানকে হত্যাকারীদের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছে। ঘোষণা করেছেঃ

“আর স্মরণ করো সেই দিনের কথা! যখন জীবন্ত কবরস্থ কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। কী অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে?” - (সুরা তাকউইর, আয়াত ৮-৯)

কন্যা সন্তানের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ইসলামঃ

সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে হবে এটি নির্ধারণ করেন স্বয়ং মহান আল্লাহ। তিনি যাকে চান তাকেই নির্দিষ্ট লিঙ্গের সন্তান দান করেন। কাউকে আবার নিঃসন্তান করে রাখেন। সুতরাং নিঃসন্তানদের তুলনায় কন্যা সন্তানের অভিভাবকগণ যে কতো অকল্পনীয় মর্যাদার অধিকারী এবং কন্যা সন্তানও যে সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান হতে পারে সে সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছেঃ

“আসমানসমূহ ও যমীনের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করেন। তিনি তো সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।” - (সুরা শু’রাঃ আয়াত ৪৯, ৫০)

কুরআনের পাশাপাশি হাদীসের মাঝেও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কন্যা সন্তানদেরকে খুবই সম্মান ও মর্যাদার উপলক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ইরশাদ হয়েছেঃ

“ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত; তিনি বলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন; যে ব্যক্তির একটি মেয়ে আছে আর সে তাকে তুচ্ছ মনে করে নাই, অপমানিত করে নাই এবং ছেলেদের উপর প্রাদান্য দেয় নাই। আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।” - (সুনানে আবু দাউদ)

আরো ইরশাদ হয়েছেঃ

“আনাস ইবনে মালেক রা. হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন; যে ব্যক্তি দুটি কন্যা সন্তান সাবালক হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করল সে কেয়ামতের দিবসে আমার সাথে থাকবে।” - (সহীহ মুসলিম)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছেঃ

“উকবা ইবনে আমের হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন; যে ব্যক্তির তিনটি কন্যা সন্তান আছে অতঃপর সে তাদের নিয়ে ধৈর্য্য ধারন করে এবং তাদেরকে ভরণ-পোষণ দিয়ে খাওয়ায় পান করায় তার নিজ সম্পদ থেকে, ক্বিয়ামতের দিবসে ঐ কন্যা সন্তানগুলো তার জন্য জাহান্নাম থেকে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে।” - (সুনানে ইবনে মাজা)

আরো ইরশাদ হয়েছেঃ

“আবু সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন; যে ব্যক্তির তিনটি কন্যা সন্তান আছে, সে তাদেরকে আদব শিক্ষা দিয়েছে এবং বিবাহ দিয়েছে এবং তাদের সাথে সদাচরন করেছে, তার জন্য রয়েছে জান্নাত।” - (সুনানে আবু দাউদ)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছেঃ

“পরিপূর্ণ মু’মিন হলো সেই ব্যক্তি, যার আখলাক-চরিত্র উত্তম। আর তোমাদের মধ্যে
সেই সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রী-কন্যাদের কাছে উত্তম।”"

- পরবর্তী পর্বঃ 'সম্মান ও মর্যাদায় নারী-পুরুষকে সমান ঘোষণা করেছে ইসলাম' প্রকাশিত হবে আগামীকাল একই সময় ইনশাআল্লাহ। আজকের এই পোষ্ট শেয়ার বা কপি-পেইসট করে ছড়িয়ে দিন সর্বত্র। ইসলাম বিদ্বেষীদের জবাব না দিলে এদের সাহস ও নিকৃষ্টতা আরও বেড়ে যাবে আগামীতে।