বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৩

হেফাজতে ইসলামের প্রতি খোলা চিঠিঃ-

~~
হেফাজতে ইসলামের প্রতি খোলা চিঠিঃ
সরকারের কাছে সমাধান নেই বরং সমাধান খুঁজুন ইসলামের কাছে...!!

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রিয় হেফাজতে ইসলাম,

এ লিখাটি একেবারেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও লিখতে হল। কারণ না লিখে কোন উপায় ছিল না। মুসলিমরা পরস্পর ভাই ভাই। তাই প্রয়োজনে সঠিক পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করা দ্বীনি দায়িত্বসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি দায়িত্ব। এছাড়াও রাসুল(স) স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘’মুমিনদের পারস্পরিক সম্পর্ক একটি প্রাচীরের মতো,যার একটি অংশ অপর অংশকে মজবুত করে’’ (সহিহ বুখারি এবং মুসলিম)।

এই লিখাটিতে আগামী ৬ এপ্রিলের ‘লং মার্চ’ কে নিয়েকিছু বলার আশা রাখি যা একেবারে না বললেই নয়। যদিও জানি না এই লেখা আপনাদের কাছে পৌঁছুবে কি পৌঁছুবে না। তবে আমাদের দায়িত্ব আমরা পালন করলাম হয়তো আল্লাহ্‌ চাইলে লিখাটি আপনাদের কাছে পৌঁছে যেতেও পারে। এবার তাহলে আসল কথায় আসি।

আমরা সবাই এটা অবগত আছি যে, আপনাদের লং মার্চটি নাস্তিক মুরতাদদের আস্ফালন বন্ধের দাবিতে ডাকা হয়েছে। এবং এ লক্ষ্যে আপনারা সরকারের কাছে ১৩ দফা দাবি উপস্থাপন করেছেন। এ দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নাস্তিকদের শাস্তি, ব্লাসেফেমি আইন পাশ, ইসলামবিরোধী ব্লগগুলো বন্ধ করে দেয়া ইত্যাদি।

আমরা যারা সাধারণ মুসলিম আছি, যাদের মধ্যে অণুপ রিমাণ ঈমানও অবশিষ্ট আছে তারা সবাই হেফাজতে ইসলামের উপরোক্ত দাবিগুলোর সাথে একমত। কেননা এগুলো তো প্রতিটা ঈমানদার মুসলিমেরই প্রাণের দাবি। তাই লং মার্চের ব্যাপারেওআমাদের সম্পূর্ণ সমর্থন আছে।

কিন্তু প্রিয় হেফাজতে ইসলাম, আপনাদের কিছু কিছু চিন্তার সাথে মোটেও একমত পোষণ করতে পারছি না। এবং আপনাদের কর্মকৌশলেও কিছুটা ভুল দেখতে পাচ্ছি। তাই আজকের এই খোলা চিঠির মাধ্যমে সেগুলোর দিকে ইঙ্গিত দেয়ার চেষ্টা করবো সেই সাথে ভুলগুলো সংশোধন করে যাতে জাগ্রত জনতার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি সত্যিকার এবং স্থায়ী সমাধান অর্জন করা যায় সে ব্যাপারেও ইনশাল্লাহ কিছু প্রস্তাবনা উপস্থাপনের আশা রাখি। এটি কোন সমালোচনা নয় বরং নসিহা। তাই আশা করবো সকলেই ইতিবাচকভাবেই এটি গ্রহণ করবেন।

হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের প্রকৃতি বিশ্লেষণঃ

হেফাজতে ইসলাম একেবারে শুরু থেকেই বলে আসছে যে তাদের আন্দোলন কোন রাজনৈতিক আন্দোলন নয় এবং এই আন্দোলনের কোন রাজনৈতিক লক্ষ্য ও নেই। তাছাড়া সংগঠনটির শীর্ষনেতৃবৃন্দ বারবার একটি কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন- আর সেটি হল তাদের আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয় বরং নাস্তিকদের বিরুদ্ধে। হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ নাস্তিকদের শাস্তিসহ ১৩ দফাদাবি ঘোষণা করেছেন এবং তারা চান যে সরকার দাবিগুলো মেনে নিক। তাহলেই তারা ঘরে ফিরে যাবেন। সেই সাথে তারা এটাও বলেছেন তারা আওয়ামীলীগকে মুসলিমদের সরকার মনে করেন, কিন্তু সরকার যদি লং মার্চে বাঁধা দেয় তবে তারা মনে করবেন আওয়ামীলীগ হচ্ছে নাস্তিকদের সরকার। এছাড়াও লং মার্চে বাঁধা পেলে লাগাতার হরতালের হুমকি দিয়েছেন তারা। তো সংক্ষেপে বলতে গেলে এ হচ্ছে হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচী।

আন্দোলনের বুদ্ধিবৃত্তিক এবং কৌশলগত দুর্বলতাঃ

এ আন্দোলনের উদ্দেশ্য সৎ। তাছাড়া দ্বীনী দৃষ্টিকোণ থেকে এর অপরিহার্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন অবকাশ নেই। সুতরাং এমন একটি আন্দোলন গড়ে তোলা সময়ের দাবিছিল। আলহামদুলিল্লাহ্‌ আমাদের অভিভাবক আলেম উলামারা এটি করেও দেখিয়েছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে এই আন্দোলনের মধ্যে কিছু চিন্তাগত এবং কৌশলগত দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। তাই কৌশলগত দিক থেকে এআন্দোলনটি সরকারের কূটচালের কাছে মার খেয়ে যেতে পারে।

আমরা চেষ্টা করব এই দুর্বল পয়েন্টগুলো সামনে নিয়ে আসার জন্য যাতে এখনই এগুলো সংশোধন করে ফেলা যায়।

আন্দোলনটির দিকে তাকালে আমরা নিম্নলিখিত দুর্বলতাগুলো দেখতে পাই-

১)সমস্যার প্রকৃত সমাধান সম্পর্কে অজ্ঞতাঃ

এটাই সবচাইতে বড় এবং মারাত্মক দুর্বলতা। হেফাজতে ইসলাম বর্তমান সরকারের কাছে নাস্তিক মুরতাদদের কাছে বিচার চাইছেন, অথচ এই সরকার হচ্ছে নাস্তিক চক্রের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। এই সরকার নাস্তিকদের গানম্যান দিয়ে পাহাড়া দিচ্ছে। তাছাড়া কাফের মুশরেকদের পদলেহি এই সরকার ক্ষমতায় আসার প্রথম দিন থেকেই দেশের আপামর মুসলিম জনতারওপর অত্যাচারের ষ্টীমরোলার চালানো শুরু করেছিল। এই আওয়ামীলীগের শাসন আমলেই বিভিন্ন স্কুলের হিন্দু শিক্ষকরা রাসুল (স) কে অপমান করার ধৃষ্টতা দেখিয়ে গেছে এবং এখনো পর্যন্ত কাউকে শাস্তির সম্মুখীন করা হয় নি।

তাছাড়া এই তাগুত সরকারের কাছে দাবি দাওয়া পেশ করা কি আদৌ ইসলাম সম্মত? রাসুল (স) কখনো বাতিল শক্তির কাছে ইনসাফ প্রার্থনা করেননি। মক্কাতে যখন রাসুল (স)এবং সাহাবাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন হচ্ছিল তখন কি মুসলিমরা আবু জেহেল, আবুলাহাবের কাছে গিয়েছিলেন দাবি দাওয়া নিয়ে???

না যাননি। কারণ ইসলাম প্রতিটা সমস্যার সমাধান তার নিজস্ব পদ্ধতিতেই করতেচায়। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ সমস্যার প্রকৃত সমাধান সম্পর্কে হয়তো এখনো পুরোপুরি সচেতন নন।

২)তাগুত সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান না নেয়াটা হেফাজতে ইসলামের একটি মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্তঃ

আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বারবার বলছেন তাদের আন্দোলনের সরকারের বিরুদ্ধে নয়। আর এটা তাদের আরও একটি ভুল যার মাশুল তাদের দিতে হবে। নাস্তিকদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে এ সরকার আল্লাহ্‌র দ্বীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তাছাড়া অসংখ্য ইস্যুতে সরকার সরাসরি ইসলাম এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এমন একটি সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান না নিয়ে কিভাবে হেফাজতে ইসলাম ইসলামের হেফাজত করবে তা একটা বড় প্রশ্ন?

তাছাড়া হেফাজতে ইসলাম নেতৃবৃন্দের এ ধরণের ঘোষণা মুসলিমদের ঈমানি গায়রতের পরিপন্থী। কারণ সরকার যেহেতু ইসলামের প্রকাশ্য শত্রু তাই এ সরকার মুসলমানদেরও শত্রু। আর তাই ঈমানদার মুসলমানরা এই সরকারের বিরুদ্ধে। আর এটাই স্বাভাবিক।

সরকার যেভাবে হেফাজতে ইসলামকে মোকাবেলা করতে পারেঃ

আমরা যদি একটু চিন্তা করি তাহলে সহজেই বুঝতে পারবো সম্ভাব্য তিনটি উপায়ে সরকার হেফাজতে ইসলামের মোকাবেলা করবে। এর বাইরে গিয়ে কিছু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

১)সরকার সরাসরি হেফাজতে ইসলামের দাবি দাওয়া প্রত্যাখ্যান করবেঃ

তবে এমনটি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। কারণ জনপ্রিয়তা হারিয়ে বর্তমান সরকারেরঅবস্থা এখন চরম খারাপ। নাস্তিক,মুরতাদ,কাফের,মুশরেক এবং মুনাফেকদের একটি গোষ্ঠীছাড়া এ সরকারের কোন পাবলিক সাপোর্ট নেই। এটি সরকারের আচরণ দেখলেই বোঝা যায়। তাই সরকার এখন পেশী শক্তির ওপর ভর করে রাষ্ট্র চালাচ্ছে।

সুতরাং, এমন অবস্থায় সরাসরি হেফাজতে ইসলামের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করে কওমি আলেমদের সাথে ডাইরেক্ট সংঘাতে সরকার যাবে না।

২)সরকার হেফাজতে ইসলামের দাবিগুলো মেনে নিয়ে তা বাস্তবায়ন করবেঃ

কিন্তু এটি অসম্ভব। কারণ বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে গিয়েছে ইসলাম বিরোধিতা। বছরের পর বছর ধরে তাদের মধ্যে চালু রয়েছে ইসলাম বিদ্বেষী চিন্তা চেতনা। শুধু তাই না আওয়ামীলীগের বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব যারা চালায় তারা ইসলাম বিদ্বেষী। দলের কন্ট্রোল তাদের হাতে। তাছাড়া এ দলটি বাংলাদেশের নাস্তিক মুরতাদদের একমাত্র আশ্রয়স্থল। এবং এটিও পরীক্ষিত। তাই এটা আশা করা বোকামির শামিল যে সরকার নাস্তিকদের নির্মূল করবে।

৩)সরকার প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বাহ্যিকভাবে দাবি দাওয়া মেনে নিবে কিন্তু তা বাস্তবায়ন করবে নাঃ

কোন সন্দেহ নেই যে এটিই হতে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার হেফাজতে ইসলামের সাথে প্রতারণা করে আপাত দৃষ্টিতে তাদের দাবিগুলো মেনে নিয়ে তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিবে। এজন্য তারা কিছু ব্লগারকে গ্রেফতারও করতে পারে। কিন্তু এর উদ্দেশ্য হবে লোক দেখানো। গ্রেফতারের পর আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতায় কেটে যাবে বেশ কয়েক মাস। আর এর মধ্যেই নির্বাচন ঘনিয়ে আসবে। আর তখন কিন্তু জনগণের দৃষ্টি চলে যাবে নির্বাচনের দিকে। মাঝখান থেকে ধামাচাপা পড়ে যাবে নাস্তিক বিরোধী ইস্যু।

যেভাবে হেফাজতে ইসলাম সরকারের ফাঁদে পড়তে পারেঃ

হেফাজতে ইসলামকে ফাঁদে ফেলা সরকারের জন্য কঠিন কিছু নয়। এজন্য সরকার হেফাজতে ইসলামের দাবীগুলো মেনে নেয়ার ঘোষণা দিতে পারে। কারণ এগুলো মেনে নেওয়া আর বাস্তবায়ন করা এক কথা নয়। তাছাড়া চাইলেই মুহূর্তের মধ্যে এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এজন্য সরকারের দরকার বেশ কিছুটা সময়। যেমন প্রথমেই ব্লাসেফেমি আইনপাশ করতে হবে। তারপর সেই আইনের আওতায় ব্লগারদের গ্রেফতার এবং পরবর্তীতে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে। এবং কোন সন্দেহ নেই বিচার শুরু হলেও তা দীর্ঘ হবে। এর মধ্যে হয়তো নাস্তিক ব্লগাররা জামিনে বেরিয়েও যেতে পারে। আর তাছাড়া সরকার যদি কতিপয় ব্লগারকে গ্রেফতার করেও ফেলে, তাহলে তা হবে নিছক লোক দেখানোর জন্য। কারণ আওয়ামীলীগ আন্তরিকভাবে নাস্তিক দমনে নেমে যাবে এটা বিশ্বাস করা আর শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেয়াটা একি কথা। এছারা আমাদের রাষ্ট্র বেবস্থা ইসলামী নয় এজন্য স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষাব্যবস্থাও ইসলামী নয়। আর এই ইসলাম বিবর্জিত শিক্ষা ব্যবস্থাই নাস্তিক তৈরির মূল মেশিন। সুতরাং গুটিকয়েক নাস্তিককে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হলেই যে এ সমাজে আর কোন নাস্তিক সৃষ্টি হবে না এর গ্যারান্টি কি??? তাই হেফাজতে ইসলামকে অবশ্যই এর স্থায়ী সমাধান নিয়েও চিন্তা করতে হবে।

তাছাড়া সরকার যদি হেফাজতের দাবিগুলো বাহ্যিকভাবে মেনে নেয় তাহলে ঘরে ফিরে যাওয়া এবং অপেক্ষা করে বারবার পত্রিকাতে বিবৃতি দেয়া ছাড়া হেফাজতে ইসলামের কিছু করনীয় থাকবে না। কারণ এটা আশা করা যায় না যে সরকার রাতারাতি হেফাজতে ইসলামের দাবিদাওয়াগুলো বাস্তবায়ন করে ফেলবে। এমতাবস্থায় হেফাজতের পক্ষে আরেকটি লং মার্চ টাইপের কিছু একটা করা হয়ে দাঁড়াবে কষ্টকর ব্যাপার। কারণ বারবার বিশাল সংখ্যক মানুষ এক জায়গাতে জড়ো করা তো চাট্টিখানি কথা নয়।

সুতরাং এভাবেই কেটে যাবে আরও কয়েকটি মাস। চলে আসবে নির্বাচন। আর তখন নির্বাচনী আবহাওয়াতে সবাই ভুলে যাবে নাস্তিক ইস্যুটি। সরকার তখন বলবে আমাদের আরেকবার সুযোগ দিন আগামীবার ক্ষমতায় এসে নাস্তিকদের ফাঁসিতে ঝুলাবো। অন্যদিকে লম্পট প্রতারকদের দল বিএনপিও তখন এটাকে কেন্দ্র করে ভোটের রাজনীতিতে ফায়দা লুটতে চাইবে।

এছাড়া আমরা যদি একটুখানি সুদূরপ্রসারী চিন্তা করি তাহলে সহজেই বুঝতে পারবোযে আগামীতে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে তার প্রথম কাজই হবে শুরুতেই ইসলামী দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া। কারণ সামনের বার আওয়ামীলীগ এই ভুল আর দ্বিতীয়বার করবে না অর্থাৎ ইসলামী দলগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে অকার্যকর করে দেয়ার নীতি সে আর নেবে না বরং প্রথম ধাক্কাতেই চেষ্টা করবে সবগুলো ইসলামী দলকে খতম করে দিতে। তাই তখন নিজেদের হেফাজত করতে গিয়েই ইসলামী দলগুলো হিমশিম খাবে।

অন্যদিকে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে তাহলেও নাস্তিকদের চিন্তিত হওয়ার কোন কারণ নেই। কারণ দলটি স্বভাবগতভাবেই কাপুরুষ এবং দুর্বল প্রকৃতির। তাছারা প্রায় দেউলিয়া হয়ে যাওয়া বিএনপি কখনো নাস্তিকদের ফাঁসী দিয়ে এবং ইসলাম বিরোধী ব্লগগুলো বন্ধ করে আওয়ামী মিডিয়ার রোষানলে পড়তে চাইবেনা। তাছাড়া ক্ষমতায় আসার সাথে সাথেই আওয়ামী মিডিয়া দলটিকে দৌড়ের উপর রাখবে। মনে আছে তো সবার- যখন ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এসেছিল তখন আওয়ামী মিডিয়া, আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠনগুলো এমনকি হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের মতো সংগঠনগুলো সারা বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা চালালেও মেরুদণ্ডহীন দল বিএনপি এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়নি। তাই এটা আশা করাটা বোকামী যে- বিএনপি ক্ষমতায় এলে নাস্তিকদের বিচার হবে।

তাই এটা স্পষ্ট যে, সরকার যদি হেফাজতে ইসলামের দাবি মেনেও নেয়, তাতে কোন অর্জন নেই সমস্যার সমাধান তো দূরের কথা। বরং এর দ্বারা সরকার মুসলিমদের টগবগ করে ফুটতে থাকা রক্তকে ঠাণ্ডা করবে, তাদের আবেগকে প্রশমিত করবে। তাই সুস্পষ্ট পরিষ্কার সমাধান সম্পর্কে ধারণা না থাকলে মুসলিমদের শক্তি (Energy) এবং উদ্দিপনার (Enthusiasm) নিঃসরণ (Discharge) হবে বৈকি কিন্তু কোন লক্ষ্য(Objective) অর্জিত (Achieve) হবে না।

প্রিয় হেফাজতে ইসলাম, বাংলাদেশে ইসলামী জাগরণ এবং ঐক্যের অভূতপূর্ব সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে তাই একে কাজে লাগানঃ

আজ এত বছর পর বাংলাদেশে ইসলামী ঐক্যের একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে আলেম উলামা এবং সাধারণ মুসলিমরা দ্বীন এবং ঈমানের হেফাজতের জন্য একত্রিত হয়েছেন যেটা পূর্বে কখনো ভাবা যেতো না। কারণ পূর্বে বাংলাদেশের ইসলামী দলগুলোকে নিজেদের মধ্যকার মনোমালিন্যের কারণে একত্রিত করাটা খুব কষ্টকর একটা কাজ ছিল। কিন্তু এবার আল্লাহ এই কাজটা সহজ করে দিয়েছেন। সবাই ইসলাম,ঈমান এবং সর্বোপরি দ্বীনী স্বার্থে এক কাতারে এসে গিয়েছেন। তাই একটি বিরাট আশা,সাহস এবং শক্তির সঞ্চার হয়েছে। একে অবশ্যই স্থায়ী এবং বৃহত্তর সমাধান অর্জনে কাজে লাগাতে হবে।

মদিনাতে রাসুল (স) কর্তৃক সর্বপ্রথম ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের সময়েও এমনটি হয়েছিল। মদিনার দুটি বড় এবং যুদ্ধবাজ গোত্র ছিল আউস এবং খাযরাজ। যারা শুধু নিজেদের মধ্যে মারামারি কাটাকাটি করতো। রাসুলের (স) মদিনা হিজরতের অল্প কিছুকাল আগেও তাদের মধ্যে ভয়াবহ বুয়াসের যুদ্ধ সঙ্ঘটিত হয় যাতে উভয় গোত্রের প্রায় সব সম্মানিত এবং নেতৃস্থানীয় লোকেরা প্রাণ হারায়। তারপর তারা দেখল যে এভাবে চলতে থাকলে তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। তাই তারা এমন কাউকেই খুজছিল যার মাধ্যমে তাদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা হতে পারে।

ঠিক তখনি, তারা যখন রাসুল(স) কে পেয়ে গেল; তারপর সহজেই তার দাওয়াত কবুল করে নিলো। এভাবে ইসলাম মদিনাবাসিকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি উম্মাহ গঠন করতে সক্ষম হয়েছিল যারা পরবর্তী সাড়ে তেরশত বছর যাবত ইসলামী খিলাফতের ছায়াতলে সমগ্র বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছিলো।

আজকে আবারো ইসলামই বাংলাদেশের আপামর মুসলিম জনতা এবং ইসলামী দলগুলোকে এককাতারে এনে দিয়েছে তাই এখনি সময়, একে কাজে লাগিয়ে ফিতনা যাতে চিরতরে নির্মূল হয়ে যায় সেই চেষ্টাই করা দরকার।

আল্লাহ্‌ (সূওতা)বলেন, ‘আল্লাহ্‌ কোন জাতির অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তনকরেন না- যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়’ (সূরা আর রাদঃ১১) ।

প্রিয় হেফাজতে ইসলাম, তাই বাংলাদেশ থেকে ইসলাম বিরোধী শক্তিকে চিরতরে নির্মূলের লক্ষ্যে লং মার্চে ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের এজেন্ডাকে অন্তর্ভুক্ত করুনঃ

রাসুল (স) বলেছেন, ‘’মুমিন একই গর্তে দুই বারদংশিত হয় না (বুখারি)’’ ।

তাই দেরী না করে এখনই লং মার্চের এজেন্ডাতে ইসলামী রাষ্ট্র তথা খিলাফত ব্যবস্থা কায়েমের ঘোষণাকে অন্তর্ভুক্ত করুন। একমাত্র খিলাফত ব্যবস্থাই বাংলাদেশসহ সমগ্রবিশ্বে ইসলাম এবং রাসুলের (স) মান সম্মানের হেফাজত করতে সক্ষম।


স্মরণ করুন ১৯২৪ সালে খিলাফত ধ্বংস হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কিভাবে ইসলামী রাষ্ট্রটি ইসলাম এবং রাসুলের (স) মান সম্মানের হেফাজত করে আসছিল। আপনাদের শুধুএকটিমাত্র ঘটনা মনে করিয়ে দিতে চাই। আশা করি বোঝার জন্য একটি ঘটনাই যথেষ্ট। ১৮৮৯সালে ফ্রান্স রাসুলকে (স) অপমান করে একটি নাটক মঞ্চস্থ করার সিদ্ধান্ত নেয়। নাটকটির রচয়িতা ছিল ফ্রেঞ্চ কবি হেনরি.ডি.বরনিয়ার। কিন্তু সেই সময়ে মুসলিম উম্মাহর খলিফাহ সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ নাটকটি বন্ধ করার জন্য ফ্রান্সকে নির্দেশ দেন এবং এর অন্যথা হলে জিহাদে আকবর ঘোষণার হুমকি প্রদান করেন। আর এতেই তৎকালীন বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি ফ্রান্স ভীত হয়ে নাটকটি মঞ্চস্থ করা থেকে সরে আসে। পরবর্তীতে ফ্রান্সকে অনুসরণ করে ব্রিটেনও ঐ নাটকটি মঞ্চস্থ করতে উদ্যোগ নেয় কিন্তু সেবারও খলিফার হুঙ্কারে তারা তা করতে সক্ষম হয়নি। দেখুন খিলাফতের একেবারে শেষের দিকের দুর্বলতম সময়েও ইসলামী রাষ্ট্র কিভাবে ইসলাম এবং রাসুল (স) এর মান ইজ্জতের হিফাজত করেছিল। এছাড়া সালাহউদ্দিন আইয়ুবি এবং নুরুদ্দিন জঙ্গির সময়ের ঘটনাগুলো দেখুন। সেখানেও দেখতে পাবেন রাসুলের(স) সম্মান রক্ষায় কেমন করে ইসলামী খিলাফত বাস্তবধর্মী এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছিল।

তাই সরকারের কাছে দাবি দাওয়া নয় বরং লক্ষ জনতার জাগরণকে কাজে লাগিয়ে সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র- খিলাফত কায়েমের মাধ্যমে চিরদিনের জন্য বাংলার জমিন থেকে ইসলাম বিরোধী চক্রকে উৎখাত করুন।

‘’ইমাম (খলিফাহ) হচ্ছেন ঢাল স্বরূপ, যার পেছনে মুসলিমরা যুদ্ধ করে এবং নিজেদের রক্ষা করে’’ (সহীহ মুসলিম)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন